একলা থাকি

আজকাল আমি উপেক্ষিত খুব,
জানালার পাশের তুইও চুপ।
আজকাল আমায় ঘর ডাকে না,
তোকে কেন আর দেখিনা!
শহরের বুকে যত আঁধার নামে,
পথটা আমার তত থামে।
বিষণ্ণতার চোখে ঝাপসা দেখি-
আমিও আজকাল একলা থাকি।

তীব্র কষ্ট হই!

আকাশের বুকটা মেঘলা বিষণ,
আমার থেকে বেশি কে তোকে ভাবে এখন?
আমিও কি তোর এত আপন!
গোধূলি আলো যখন ফিকে হয়ে যায় রাতের রঙে, 
আমায় ভেবে তোর মনটাও কি ভাঙে!
তোর বুকের জানালায় আমিও কি তীব্র কষ্ট হই!
মুখটাও কি ভিজে যায় বোবা কান্না জলে?

রাখবে আমায়!

যতদূর যাবে, রাখবে আমায়!
কতদূর গেলে বল প্রেম হারায়?
-রুদ্রাক্ষ অহম

ভালোবাসা মরুক

ভোরের আলো নষ্ট হচ্ছে, হোক।
তোকে চেয়ে মন ভাঙছে, ভঙুক।
বিষণ্ণতার চোখে আঁধার নামছে, নামুক।
ভালোবাসা মরছে যখন, মরুক।

বিদ্রোহী

আরো কিছু বিষণ্ণতা চাই,
চাই আরো খুব মন খারাপের রাত-
সহ্যের সীমান্ত যেন ছুঁয়ে যাক নিঃসঙ্গতার অভিশাপ।
তবেই না হৃদয়টা অবহেলায় ধুয়ে মুছে হয়ে উঠবে বিদ্রোহী-
সময় ভুলে যাবে তোমার নামের যত সব পাগলামি।

১২/

তোর নামে নেমে আসা যত শব্দ-
বেলা অবেলা যাই হোক, আমায় করে ফেলে জব্দ।
-রুদ্রাক্ষ অহম

তোমায় চাই না বলে

শুধু তোমায় চাইনা বলে প্রিয়তমা-
সকাল আমায় দিচ্ছে কিছু মিথ্যে তাড়াহুড়া।
যন্ত্রণা ভুলায় অহেতুক যান্ত্রিকতার বাহানা।
শুধু তোমায় চাইনা বলে প্রিয়তমা-
ঘরটা আমার আজকাল আমায় চাইনা, ডাকেনা।
ফেরার পথ রুদ্ধ, কুকিয়ে উঠে শূন্যতা।
শুধু তোমায় চাইনা বলে প্রিয়তমা-
জ্যোৎস্না গুলো কিছুতেই আমার হয় না-
আমার জানালায় আর ফুটে না।
শুধু তোমায় চাইনা বলে প্রিয়তমা-
রাতের ঘরটা আমার অস্থির খুব,
যত্রতত্র আমায় পোড়ায় একলা বারান্দা।
শুধু তোমায় চাইনা বলে প্রিয়তমা-
আমার আর কখনো প্রেমিক হওয়া হয় না।

১১/

রাত! নাকি ভোর এখন?
চোখের বুকটা খালি বিষণ।
ঘুমের চোখে তুই,
আজ না হয় তোকেই লিখলাম।
 
- রুদ্রাক্ষ অহম

১০/

আঁধারের দেয়ালে লিখছি তোকে খুব,
চোখ জোড়া চাইছে, আরো কিছু রাত জাগুক।

- রুদ্রাক্ষ অহম

৯/

মেঘে ঢাকা আকাশ, বাতাসে স্লোগানের ধ্বনি-
রাজপথে লিখছে তারা, অধিকার আদায়ের বাণী।

-রুদ্রাক্ষ অহম

৮/

ঘড়ির কাটাকে শিখিয়ে দিলাম তোর "নামটা"-
সময়মত রোজ রাত্রিবেলা ঝাপসা দেখি, "বারান্দাটা।"

-রুদ্রাক্ষ অহম

৬/

চলো বিশ্বাসী হই,
অবিশ্বাসের পায়রা বুঝেনা হৃদয়।

-রুদ্রাক্ষ অহম

৫/

তুমি দূরত্ব দেখতে পাও,
দেখতে পাওনা হৃদয়-
ভালোবাসায় অভিশাপ যদি লাগে,
ফিরে আসেনা সময়।

-রুদ্রাক্ষ অহম।

৪/

তুমি ঠিক কতটা তুমি?
দ্বিধার চোখ অত্যাচারী-
মনের কাছে জানতে চাইলে,
সে বলে "ধুর, আমি কি আর অত জানি!"।

-রুদ্রাক্ষ অহম

৩/

অতটা আমি তোমার নই,
যতটা তুমি ভাবো।
আমারও কিছু আমাকে চাই,
কাঁদবে যদি কাঁদো।

-রুদ্রাক্ষ অহম

২/

শহরের বুকে নেমে এলে রাত-
ভেতরটা তোর খোঁজে অবুঝ হঠাৎ।
তোকে চেয়ে ঘুমের চোখে নেই যে ঘুম,
বিষণ্ণতায় ভরে গেছে এই কালো রুম।
বিরহ যখন পুড়িয়ে খাচ্ছে, খাক-
দেহ ছেড়ে মনটা তবু মুক্তি পাক।
-রুদ্রাক্ষ অহম

১/

এই যে ভাবছি তোমায়,
খুঁজছি তোমায়, চাইছি তোমায় খুব!
বুকের পাঁজর ভাঙ্গছে বিষণ -
মনটা তবু চুপ।

-রুদ্রাক্ষ অহম

একলা লাগে বিষণ

আমার কেন এত পুড়ে!
কেন এতটা বেকুল হয় হৃদয়!
আড়াল খুঁজে চোখে!

আমার কেন এত ক্ষয়!
ব্যথার ছোঁয়া আর কত সয়!
চোখের কোণের জলে,
শুধুই তোর কথা বলে।


আমি ভাবি রোজ,
করবো না তোর খোঁজ-
রাত্রি নেমে এলে,
এসব ভাবনা কি আর চলে!

আঁধার ঘরে যখন-
আমিই আমার আপন,
সত্যি বলতে কি!
একলা লাগে বিষণ।

কতোপকোথন-১

চোখে চোখ রেখে বলেই ফেললাম, "ভালোবাসি"। 
তুমি বললে, "ভালোবাসা! এতটাও সহজ নাকি?" 
আমি বললাম, "সহজ কিনা জানিনা, কঠিনটাও বা কতটুকু জানা নেই। 
আজকাল শুধু তোমাকেই জানতে ব্যাকুল হৃদয়। 
তুমি জিজ্ঞেস করলে, কতটুকুন তোমায় জানলাম!
আমি বললাম, সাত সাতটা জন্মে তোমায় আপন করতে যতখানি জানা দরকার ততটুকুন জেনে নিলাম।

গর্জন

মিছিলে মিছিলে ঢেকে গেছে রাজপথ, 
স্লোগানে স্লোগানে ভাঁড়ি হচ্ছে বাতাস। 
প্রতিবাদের গর্জন কাঁপিয়ে দিচ্ছে বুক, 
আলো আসবেই, যত ইচ্ছে আঁধার নামুক।

অভিশপ্ত প্রেমিক


ভাগ্যের কি আর দোষ,
আমি অভিশপ্ত প্রেমিক-
বিশ্বাসী হতে এসে বারবার হয়েছি অপদস্থ
ক্ষুধার্ত কুকুরের মত তবু ঘুরেফিরে ফের আসি,

এই বার যদি ভাগ্য বদলায়!
নির্লজ্জতার বিনিময়ে হয়ে উঠি যদি বিশ্বাসী!!!!!

যদি অসম্ভব ভালোবাসা ত্যাগে
মিলে এক চিমটি ভালোবাসা!
তবে আমিও বলবো একদিন আমাকে-
ভালোবেসেছিলে তুমিও আমায়,
সত্য বা মিথ্যে, একদিন বা অনন্তদিন কি বা যায় আসে তাতে!

দূরের তুমি

দূরের তুমি, দূরেই থেকে যেতে!
কেন এলে, কাছে এতটা-
দূরেই যদি গেলে?
দূরেই যাবে যদি, 
কেন এতটা কেড়ে নিলে হৃদয়?
কেন এতটা প্রেমিক বানালে!
আমি তো বেশ ছিলাম,
দিব্যি ভাল যাচ্ছিলো সময়।
তবে ঠিক কোন কারণে,
কোন প্রতিশোধের আগুনে
জ্বালিয়ে মারছো আমায়?

তুমি যে ভালোবাসা চাও!

তুমি যে ভালোবাসা চাও!
কখনো ভেবে দেখেছো, দিতে কতটুকু পারো!
কতটুকু ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা হয়?
তুমি যে ভালোবাসা চাও! 
ভালোবাসা কতটুকু পোড়ায় জানো! বুঝো?
কতটুকু ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে ভিতরটা!
হৃদয়টাকে করে ফেলে কতটা ভঙ্গুর!
তুমি যে ভালোবাসা চাও!
ভালোবাসা যে বড় লোভী, অত্যাচারী, স্বৈরাচারী-
আত্মাটাকে মেরে ফেলে দেহটাকে ছেড়ে দেয় জীবন্ত লাশ বানিয়ে।
তুমি যে ভালোবাসা চাও!
ঠিক কেন চাও! বলতে পারো?
-রুদ্রাক্ষ অহম